বন্যা ও ভাঙনের সাথে বেঁচে থাকার সংগ্রাম
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে (জুন–অক্টোবর) তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। হাজার হাজার পরিবার সাময়িকভাবে বাস্তুহারা হন।
তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতি বছর অনেক পরিবার তাদের ভিটেমাটি, জমিজমা হারান। একাধিকবার স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হন অনেকে।
উত্তর বাংলাদেশে শীতকালে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হয়। চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষরা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পান।
বর্ষা মৌসুমে প্রত্যাশিত বৃষ্টি না হলে খরা দেখা দেয়। সেচের অভাবে ফসল নষ্ট হয়, কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত বাড়ছে।
সুন্দরগঞ্জ বাংলাদেশের সবচেয়ে বন্যাপ্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি। প্রতি বছর কম-বেশি বন্যা হয়। বড় বন্যায় উপজেলার ৬০-৭০% এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে।
খাদ্য সহায়তা, ভিজিএফ কার্ড, আশ্রয়কেন্দ্র এবং নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়।
BRAC, RDRS চরাঞ্চলের মানুষকে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবেলায় সহায়তা দিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ করছে। তবে তীব্র স্রোতে ভাঙন একটি বড় সমস্যা।
সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর দেওয়া হচ্ছে।
বন্যা, ভাঙন ও দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করেও সুন্দরগঞ্জের মানুষ মাথা উঁচু করে টিকে আছেন। প্রতি বছর বন্যায় সব
হারিয়ে আবার নতুন করে শুরু করার অসাধারণ মনোবল এই মানুষগুলোর বৈশিষ্ট্য।
চরের কৃষক বন্যার পানি নামার সাথে সাথেই মাটি প্রস্তুত করতে নামেন। নদীভাঙনে ঘর হারানো পরিবার নতুন চরে আবার
ঘর তোলেন। এই অদম্য জীবনীশক্তিই সুন্দরগঞ্জের সবচেয়ে বড় সম্পদ।